- আমরা বিশ্বাস করি একদিনে সব কিছু হবেনা। তবে শুরু যেহেতু হয়েছে বাকী সব কিছু দ্রুতই হয়ে যাবে।
- ইতিবাচক চিন্তা করেন এমন কিছু মানুষকে নিয়েই যাত্রা শুরু। আলোচনা এগিয়ে চলবে। যারা এই ধারণায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে রাজী হবেন তারাই যুক্ত হতে থাকবেন। কাউকে বাদ দিয়ে চলার কোন পরিকল্পনা নাই। যে কোন সময় যুক্ত হওয়ার যেমন অধিকার তেমনি যে কোন সময় বের হয়ে যাওয়ার অধিকারও থাকবে প্রত্যেকের।
- যারা আগ্রহী তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে এবং কাজ শুরু হবে।
- প্রথমেই একটি ওয়েব সাইট, হোয়াটস্অ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপ গঠন করা হবে এবং ইউটিউব চ্যানেল খোলা হবে। এই চ্যানেলগুলো আলোচনা-সমালোচনা, জনমত গঠনে সহায়ক হবে। এরপর ইউনিয়নব্যাপী ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করার প্রচেষ্টা নেয়া হবে। ইউনিয়নের অধিবাসীগণের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় রাজী হবেন এবং যারা ইউনিয়নের বাইরে চাকরী-বাকরী, ব্যবসা ইত্যদিতে নিয়োজিত তারা ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুতে সহায়তা করতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে সেটির ইন্টারনেটও ওয়াই-ফাই-তে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। পরবর্তিতে নানামুখী আয়ে এটিকে টেকসই করা সম্ভব হবে।
- দ্বিতীয় কাজ হবে উদ্যোক্তা সৃষ্টি। এলাকার বেকার যুবকদের সংগঠিত করা হবে। তাদের কোন ব্যবসা শুরুর ধারণা থাকলে সেগুলি শোনা হবে। ভালো ধারণাগুলিকে সহায়তা করা হবে। অর্থ সংস্থানের জন্য তাদের নিজস্ব পুঁজি কেমন সে বিষয়ে জেনে নেয়া হবে। এক একটি দল গঠন করে সেই পুঁজিগুলোকে একত্র করে বিনিয়োগ করতে পারে কিনা সেটি বিবেচনা করা হবে। ব্যবসার তহবিল সৃষ্টির জন্য একটি সমবায়-ভিত্তিক পুঁজি গঠন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা হবে। যারা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তারা সেখান থেকে শেয়ার কিনতে পারবেন। একটি শেয়ারের মূল্য হবে মাত্র ১০ টাকা যাতে যার মাত্র ১০ টাকা প্রদানের সামর্থ্য বা ইচ্ছা আছে তারাও শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন। এক ব্যক্তি এক বা একাধিক শেযার ক্রয় করতে পারবেন। যারা বিভিন্ন কমিটির সদস্য হবেন শেয়ার ক্রয়ে তাদের অগ্রণী হতে হবে।
- যারা ব্যবসা শুরু করবেন তারাও ব্যবসার নামে তালিকাভুুক্ত হবেন এবং নিজের বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে শেয়ার কিনবেন। যৌথ পুুঁজি ব্যবস্থা থেকে তাদের ঋণ প্রদান করা হবে। ঋণ গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসার শেয়ারধারীগণকে ব্যবসার পক্ষ থেকে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে ন্যুনতম বার্ষিক মুনাফা দিতে হবে। লাভ বেশী হলে প্রতিশ্রুত মুনাফার বেশী দিতে হবে। ব্যবসার লাভ-লোকসান পুঁজি ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রমাণসহ জানাতে হবে। শেয়ারধারীগণ যে কোন সময় তাদের শেয়ারের অাংশিক বা পুরোটা বিক্রয় করতে পারবেন অথবা নুতন শেয়ার কিনতে পারবেন। বার্ষিক ভিত্তিতে লভ্যাংশ ঘোষনার সময় শেয়ার যার নামে থাকবে তিনি বা তারাই মুনাফা পাবেন। এভাবে পুঁজি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় বহু ব্যবসা নিবন্ধিত থাকবে এবং সকল ব্যবসার শেয়ার ও মুনাফা একই পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
- ব্যবসা উদ্যোক্তাগণ লভ্যাংশের শতকরা ১০ ভাগ ইউনিয়নের উন্নয়ন মডেলের অনুকুলে কার্যকরী কমিটির ব্যাংক একাউন্টে জমা দিবেন। এই অর্থ কমিটির অন্যতম আয়ের উৎসে পরিণত হবে।
- ধীরে ধীরে ইউনিয়নের সকল ব্যবসা ও আয়-বর্ধনমূলক কর্মসূচিকে ইউনিয়ন উন্নয়ন মডেলের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে। মডেলের আওতায় গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিটির মাধ্যমে আয় বর্ধন করা যেতে পারে। সেগুলো ব্যবসার মডেল হতে পারে।
- ইউনিয়নে পরিচালিত ব্যবসাগুলো থেকে পণ্য ক্রয় করলে স্থানীয় অধিবাসীদের বিশেষ ছাড় দেয়ার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা যেতে পারে। যেমন- মোড়কে বর্ণিত মূল্যের উপর ১০ শতাংশ ছাড়। এর বিনিময়ে প্রতিটি ক্রয়ে বিক্রয় মুল্যের উপর শতকরা ৫ শতাংশ স্থানীয় উন্নয়ন সাজচার্জ যোগ করা যেতে পারে। যা কার্যকরী কমিটির অনুকুল জমা হবে। এভাবে ধীরে ধীরে কার্যকরী কমিটির আয়ের পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
- অধিবাসীগণ যদি প্রত্যক্ষ করেন যে, এই উন্নয়ন মডেলের সার্বিক লক্ষ্য কী এবং তা সত্যি সত্যিই বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে দৃশ্যমানভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে তাহলে তারা এই উন্নয়ন সাজচার্জ দিতে কার্পণ্য করবেন না। যদি ইউনিয়নের বাইরের অপরাপর অঞ্চলের সাথে পণ্যমূল্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা যায় তাহলে অন্য অঞ্চলের মানুষজনও এই ইউনিয়নের দোকানপাট থেকে কেনাকাটা করতে উৎসাহী হবেন। তাদের কাছ থেকেও উন্নয়ন সাজচার্জ নেয়া যেতে পারে।
- যদি কার্যকরী কমিটি বিশেষ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে ঢাকা বা অন্য উৎস থেকে বাল্ক ক্রয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট পণ্য সরবরাহ করতে পারেন তাহলে স্থানীয় পণ্যমূল্য হ্রাস করা যেতে পারে। স্থানীয় পণ্য বাজারজাতকরণ এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যেতে পারে।
ইউনিয়ন উন্নয়ন মডেলের কর্মসূচিগুলি কী? কতদিনের মধ্যে এগুলো শুরু করা হবে?
ইউনিয়ন উন্নয়ন মডেলের কর্মসূচিগুলি নিচে বণর্না করা হয়েছে। পুরো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর লেগে যাবে। উন্নয়নের কোন গন্তব্য নেই। কোন সমাপ্তিও নেই। তবে প্রতিটি উদ্যোগ বা কর্মসূচি অবশ্যই সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে সামান্যতম হলেও শুরু করতে হবে। কার্যকরী কমিটির এক একজন সদস্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিগুলো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। নিয়মিত পাক্ষিক ও মাসিক সভার মাধ্যমে অগ্রগতি পর্যালোচনা, জবাবদিহিতা ও সহযোগতিা নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন সংসদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।